ইসলামে নারীর অধিকার ও অবস্থান
Abstract
ইসলামে নারীর অধিকার ও অবস্থান কোনো সাময়িক সামাজিক সংস্কার নয়, বরং তা মানব মর্যাদার এক চিরন্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। প্রাক-ইসলামি আরবের চরম লিঙ্গবৈষম্য ও মানবিক অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে ইসলাম নারীকে কেবল সামাজিক শৃঙ্খল থেকেই মুক্ত করেনি, বরং আত্মিক, সামাজিক, আইনি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পুরুষের সমকক্ষ এক স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কুরআনিক দর্শনে নারী ও পুরুষ সৃষ্টির মূলগত উৎস এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনে পরস্পরের ‘আউলিয়া’ বা অভিভাবক-সহযোগী। ইসলাম নারীকে তার নিজস্ব আইনি অস্তিত্ব (Legal Identity) প্রদান করেছে, যার ফলে বিবাহিত বা অবিবাহিত যেকোনো অবস্থায় সে তার সম্পদ, উপার্জন ও চুক্তির একক মালিকানা ভোগ করে—যেখানে স্বামী বা পিতারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় দেনমোহর লাভ, উত্তরাধিকারের অংশ এবং জীবিকার দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি নারীর অবস্থানকে আরও সংহত করেছে। এছাড়া পরিবারে স্ত্রীর মতামতের মূল্যায়ন, বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার আইনি স্বাধীনতা (খোলা) এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে জ্ঞানচর্চা ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে ইসলামে নারীর মর্যাদা কোনো আপেক্ষিক বিষয় নয়; বরং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও সামগ্রিক মানবিক ভারসাম্যের এক অপরিহার্য স্তম্ভ।