কোরবানির ইতিহাস ও কিছু মাসায়েল
Abstract
কুরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি অন্যতম শিআর (প্রতীকী ইবাদত) ও গুরুত্বাবহ ওয়াজিব আমল, যা মূলত খোদাভীতি, আত্মত্যাগ ও আনুগত্যের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। কুরবানির ইতিহাস মানবজাতির সূচনালগ্নের সাথে সম্পৃক্ত; আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের পেশকৃত নজরানার মাধ্যমে এর গোড়াপত্তন ঘটে। পরবর্তীতে হযরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে নিজ প্রিয় সন্তান হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি করার যে বিরল ও অভূতপূর্ব আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, মহান আল্লাহ তা বিশ্ব মুসলিমের জন্য 'সুন্নতে ইব্রাহিমি' হিসেবে কিয়ামত পর্যন্ত জারি রেখেছেন। কুরবানি সঠিকভাবে আদায়ের জন্য এর শরয়ি মাসআলা-মাসায়েল জানা অত্যন্ত জরুরি। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের মধ্যে যার কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। নির্ধারিত বয়সের নিখুঁত ও সুস্থ পশু শরিয়তসম্মত উপায়ে জবাই করা, জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং কুরবানির গোশত তিন ভাগে (নিজের জন্য, আত্মীয়দের জন্য ও গরিব-দুঃখীদের জন্য) বণ্টন করা এর গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েলের অন্তর্ভুক্ত। সংক্ষেপে, কুরবানি কেবল পশু জবাই করার আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এর প্রকৃত সারমর্ম হলো তাকওয়া ও মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে পূর্ণরূপে সমর্পণ করা।